কোন সাঁজে কেমন গয়না পরবেন

নিজের ভালোলাগা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয় গহনা। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের রুচি ও ফ্যাশানেরও পরিবর্তন হয়েছে। সোনা, রুপা, হীরা, মুক্তা গহনার উপকরণ হিসেবে বেশ জনপ্রিয় বরাবরই দেখা যায় তবে কাঠের ও মাটির গয়নাও বেশ ফ্যাশনেবল। অনেকে হালকা গয়না পছন্দ করলেও ভারি গয়নাও অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কিন্তু সব লুকের সাথে সব গয়না যায় না। কোন সাঁজের সাথে কোন ধরনের গয়না ভাল মানাবে তা ভাববার বিষয়। কারন স্থান-কাল চিন্তা না করে খুব দামি গহনা পরেও হাসির পাত্রী হতে পারেন।
সেই সমস্যার সামধানে আজ কারুকর্মের পক্ষ থেকে রইল কিছু টিপস…

বিয়ে বাড়ি
  • অলঙ্কার হিসেবে ফুলের কদর এখনও কমে নি। বিয়ে বাড়িতে হলুদের অনুষ্ঠানে এখনও ব্যবহৃত হয় ফুলের গহনা।
  • আর বর্তমানে অলঙ্কার হিসেবে এসেছে সোনা রূপো হীরে মুক্তো রত্নরাজি। দামি গহনা অনেকের পক্ষেই হয়তো কেনা সম্ভব নয়। কিন্তু হলুদে যদি ম্যাচিং করে একটা মাটির গহনাও পরেন, তাতেও আপনি হয়ে উঠতে পারেন অপরূপা।
  • রাতের কোন অনুষ্ঠানে বা বিয়ে বাড়িতে আপনি চাইলে ভারি গহনা পরতে পারনে। কিন্তু দিনের বেলার অনুষ্ঠানে হালকা গহনা ব্যবহার করাই ভালো।
  • আপনার শাড়িটি যদি প্লেন এবং সিম্পল হয় সেক্ষেত্রে তার সাথে হেভি জাঙ্ক জুয়েলারি সবথেকে বেশী ভালো লাগবে। তা নেকপিস হতে পারে বা একটু লম্বাও হতে পারে।
  • হাতে কী পরতে চাইছেন তা আপনার শাড়ি বা সালোয়ার বা অন্য কিছুর সাথে ম্যাচ করে ঠিক করুন। শাড়ির সাথে মুঠো ভর্তি চুড়ি পরতে পারেন। সালোয়ারের সাথে ব্রেসলেট বা ঘড়ি পরুন।
অফিস পরিধানে
  • কর্মক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সিম্পলের মাঝে নিজের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলুন। অফিসে গহনা পরার ক্ষেত্রে ছোট ছোট গহনা পরা ভাল। জুতা এবং ব্যাগের রঙ কাছাকাছি শেডের মধ্যে বাছাই করলে দেখতে দারুণ লাগবে।
  • অফিসে যত ছিমছাম যাওয়া ততই ভালো তাই পোশাকটা কারুকার্য খচিত হলে গহনা যথাসম্ভব কম পরুন।
  • শব্দ হওয়া কোন অলঙ্কার না পরাই ভালো। কারণ অফিসে আপনি এমন গহনা পরবেন না যা আপনার সহকর্মিকে বিরক্ত করে।
  • যেকোনো আউটফিটে অবশ্যই হাত ঘড়ি পরুন।
  • ছোট কানপাশা বা পাথরের দুলের সঙ্গে চিকন চেইন পরা যেতে পারে।
  • স্পেশাল দিন গুলোতে শাড়ির সাথে স্টোনের সরু নেকলেস সেট পরতে পারেন।
ক্লাশের জন্য
  • ক্লাশের উপস্থিতির ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিপাটি থাকা প্রয়োজন। সেই সাজে আপনাকে সচেতন হতে হবে। এমন সাজে সজ্জিত হবেন না, যে সাজ আপনাকে হাসির পাত্রী করে তোলে।
  • স্মার্টনেসের সাথে একটু ফ্যাশন করা যেতেই পারে। একটা হালকা হার বা টপ দুলই যথষ্টে।
  • চিকন চুড়িও পরতে পারেন। ক্লাশের পরিবেশে মানিয়ে যায় এমন আংটিও আঙুলে পরে নিতে পারেন।
  • পোশাক যদি সাদামাটা হয় তাহলে সামান্য ভারি গহনা পরতে পারনে। তবে যেটাই পরেন সেটা যেন একটাই হয়। তা হতে পারে একটা লম্বা মালা অথবা সুন্দর একটা বালা। কিংবা এক জোড়া দুল।
ঘরোয়া অনুষ্ঠানে

অনেকেই বাড়ির হালকা অনুষ্ঠানে জড়োয়া গহনা পরে বসেন, এটা করবেন না। এতে রুচিবোধের অভাব পরিলক্ষিত হয়। একমাত্র বিয়ে বাড়ি বা জমকালো অনুষ্ঠান ছাড়া ভারি অলঙ্কার না পরাই ভালো। গহনা আধুনিক কিংবা পুরানো দিনের হোক শুধু খেয়াল রাখবেন কোন অনুষ্ঠানে কী পরবেন। বর্তমানে অনেক অল্প সোনা, রূপো দিয়েই হালকা ধরনের রুচিসম্মত গহনা তৈরি হচ্ছে। আপনার পোশাক ও চেহারার সাথে মিলিয়ে অনায়াসে পরতে পারি রুচিসম্মত গহনা।

পিকনিক বা ভ্রমণের সাঁজ
  • গহনা পরার ক্ষেত্রে আপনার বয়স বিবেচনায় রাখুন।
  • পাথরের গহনা শুধু হাতে, কানে ও গলায় পরবেন। 
  • গলায় লম্বা চেইন বা হালকা নেকলেস পরতে পারেন। তাতে আপনাকে মার্জিত মনে হবে।

Leave a Reply